ভূতুড়ে জঙ্গলের অভিযান (The Haunted Forest Adventure) CHAPTER 2: যাত্রা শুরু

CHAPTER 2: যাত্রা শুরু

The Journey Begins

(সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার)

বাস থেকে নেমে পাঁচ বন্ধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে। চারপাশে ঘন সবুজ বন, মাথার উপর ঝোপঝাড়। বাতাসে ভিজা মাটির গন্ধ।

"ওয়াও! এটা তো অনেক সুন্দর!"

"কিন্তু এখানে কেউ নেই তো?"

"ভয় পেও না। আমরা একসাথে।"

তারা সুন্দরবনের ভেতরে প্রবেশ করল। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হল। পাখিরা ডাকছিল, বানর গাছে লাফাচ্ছিল।

কিছুক্ষণ হাঁটার পর, তারা একটি ছোট গ্রামে পৌঁছাল। গ্রামটি ছিল খুব ছোট, ১০-১২ টা বাড়ি।

"তোমরা কারা? এখানে কি করছ?"

"আমরা কলেজের ছাত্র। ঘুরতে এসেছি।"

"ঘোরাফেরা না। এখানে বিপদ আছে।"

"কি ধরনের বিপদ?"

"জঙ্গলের ভেতর একটি মন্দির আছে। সেখানে ভূত থাকে। যারা রাতে জঙ্গলে যায়, তারা ফিরে আসে না।"

"ভূত? এসব কথা বিশ্বাস করি না।"

"বিশ্বাস করো আর না করো, কিন্তু সাবধানে থেকো।"

তারা গ্রাম থেকে বেরিয়ে আসল।

"ভাই, ফিরে যাই না?"

"না, আমরা এসেছি, কাজ শেষ করে যাব।"

হঠাৎ একজন বৃদ্ধ লোক তাদের সামনে এল। তার চেহারা ছিল অদ্ভুত, চোখে গভীর জ্ঞান।

"তোমরা কি মন্দিরের খোঁজে?"

"আপনি কীভাবে জানলেন?"

"আমি এই জঙ্গলে অনেকক্ষণ ধরে আছি। আমি সবকিছু জানি।"

"আপনি কে?"

"আমি একজন সাধু। আমি তাদের সাহায্য করি যারা হারিয়ে যায়।"

"আপনি কি আমাদের সাহায্য করবেন?"

"হ্যাঁ, কিন্তু তোমাদের সাবধান হতে হবে।"

তিনি তার ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো মানচিত্র বের করলেন। মানচিত্রটি ছিল হলুদ, কিন্তু এখনো পরিষ্কার।

"এই মানচিত্র তোমাদের সাহায্য করবে। মন্দিরটি জঙ্গলের গভীরে।"

রাজ মানচিত্রটি নিল।

"আর একটা কথা, রাতে জঙ্গলে যেও না। রাতে জঙ্গল বিপদজনক হয়ে ওঠে।"

(বিকেল ৪টা)

তারা জঙ্গলে এগিয়ে যাচ্ছিল। মানচিত্র অনুযায়ী তারা সঠিক পথে ছিল।

কিন্তু সূর্য ডুবতে শুরু করল। জঙ্গলের ভেতর অন্ধকার নামতে লাগল।

"ভাই, রাত হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোথায় থাকব?"

"আমরা একটি কুঁড়েঘর খুঁজে বের করব।"

তারা একটি পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর খুঁজে পেল। ঘরটি ছোট হলেও নিরাপদ মনে হল।

তারা ঘরের ভেতরে গেল। রাত হয়ে গেল।

(রাত ৮টা)

তারা আগুন জ্বালাল। আগুনের আলোয় গল্প করছিল।

"তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ?"

সবাই চুপ করে শুনল। একটি ফিসফিস শব্দ ভেসে আসছিল।

"এটা কী?"

"হয়তো বাতাস।"

কিন্তু শব্দটি ক্রমে জোরালো হল। যেন কেউ কাছে আসছে।

"ভাই, আমরা এখান থেকে চলে যাই।"

"না, আমরা নিরাপদ।"

হঠাৎ ঘরের দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।

তারা ভয়ে চিৎকার দিল।

দরজার সামনে একটি সাদা পোশাকের মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চুল লম্বা, চোখে কান্না।

"ফিরে যাও। এখানে মৃত্যু অপেক্ষা করছে।"

"আপনি কে?"

"আমি এই জঙ্গলের রক্ষক। আমি তোমাদের বাঁচাতে এসেছি।"

"কিন্তু আমরা তো কিছু করিনি।"

"তোমরা যা খুঁজছ, তা তোমাদের জন্য নয়। ফিরে যাও।"

"আমরা ফিরে যাব না।"

"তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে।"

বলেই মহিলা অদৃশ্য হয়ে গেল।

তারা ভয়ে কাঁপছিল। তারা বুঝতে পারল, এই অ্যাডভেঞ্চার সহজ হবে না।

(রাত ১১টা)

তারা ঘুমিয়ে পড়ল, কিন্তু তাদের মনে ছিল ভয়।

মধ্যরাতে রাজের ঘুম ভাঙল। সে শুনতে পেল, কেউ কাঁদছে।

সে বাইরে তাকাল। সেই একই মহিলা কাঁদছিল।

"তোমরা কেন যাচ্ছ না? তোমাদের বাঁচাতে হবে।"

"আমরা যাব না।"

"তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে।"

"আমরা ভয় পাই না।"

মহিলা হতাশ হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। রাজ বুঝতে পারল, এই মহিলা তাদের সাহায্য করতে চাইছে।

(ভোর ৫টা)

তারা ঘুম থেকে উঠল। সবাই ক্লান্ত ছিল, কিন্তু সাহস ছিল।

"চলো, আমরা মন্দিরের দিকে যাই।"

তারা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করল। তাদের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেছিল।

Advertisement

📢 Share this post & help us grow!

Previous Post Next Post
No one has commented on this post yet
Comments Here

Follow Top Trending Privacy Policy and comments

comment url