ভূতুড়ে জঙ্গলের অভিযান (The Haunted Forest Adventure)|CHAPTER 3: ভূতুড়ে কুঁড়েঘর (The Haunted Hut)
CHAPTER 3: ভূতুড়ে কুঁড়েঘর
The Haunted Hut
ভোরের আলো জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আসছিল। পাঁচ বন্ধু কুঁড়েঘর থেকে বেরিয়ে এল। তাদের মুখে ছিল ক্লান্তি আর সাহস।
"গতরাতের ঘটনা খুব ভয়ানক ছিল।"
"সেই মহিলা কে ছিল? কেন সে আমাদের সাহায্য করতে চাইছিল?"
"হয়তো সে এই জঙ্গলের আত্মা। সে আমাদের বাঁচাতে চাইছে।"
"আমরা এগিয়ে যাই। মন্দির খুঁজে বের করতে হবে।"
তারা মানচিত্র অনুযায়ী এগিয়ে গেল। জঙ্গল ক্রমে ঘন হতে লাগল। গাছগুলো ছিল বিশাল, যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে।
কিছুক্ষণ হাঁটার পর, তারা একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দেখতে পেল। বাড়িটি ছিল পুরোনো, কিন্তু এখনো দাঁড়িয়ে ছিল।
"এটা কী?"
"হয়তো কেউ এখানে বাস করত।"
তারা বাড়ির কাছে গেল। দরজা খোলা ছিল। তারা ভেতরে প্রবেশ করল।
বাড়ির ভেতর ছিল অন্ধকার। ধুলো আর মাকড়সার জাল ছিল। তারা টর্চ জ্বালাল।
"দেখো!"
তারা দেখতে পেল, দেয়ালে রক্তের দাগ।
"এটা কী? রক্ত?"
"হয়তো কেউ মারা গেছে।"
তারা ভয় পেয়ে পিছনে ফিরে যেতে চাইল, কিন্তু তখনই দরজা বন্ধ হয়ে গেল। তারা চিৎকার দিল, "সাহায্য!" কিন্তু কেউ সাড়া দিল না।
হঠাৎ একটি মহিলার কান্নার শব্দ ভেসে এল। শব্দটি আসছিল উপরের তলা থেকে।
"উপরে যাই।"
তারা সিড়ি দিয়ে উপরে উঠল। উপরের তলায় একটি ঘর ছিল। ঘরটি ছিল সাজানো, যেন কেউ সম্প্রতি এখানে ছিল।
ঘরের মাঝখানে একটি বিছানা ছিল। বিছানায় একটি মহিলা শুয়ে ছিল। মহিলা সাদা পোশাকে, চুল লম্বা, চোখে কান্না।
"আপনি কে?"
"আমি এই বাড়ির মালিক।"
"আপনি কি একা?"
"না, আমার স্বামী ছিল, কিন্তু সে মারা গেছে।"
"কিভাবে?"
"সে মন্দিরে গিয়েছিল। সে আর ফিরে আসেনি।"
"মন্দির?"
"হ্যাঁ, জঙ্গলের গভীরে একটি মন্দির আছে। সেখানে ভূত থাকে।"
"আপনি কি আমাদের সাহায্য করবেন?"
"হ্যাঁ, কিন্তু তোমাদের সাবধান হতে হবে।"
তিনি তার ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো বই বের করলেন। বইটি ছিল ছোট, কিন্তু ভারী।
"এই বইটি তোমাদের সাহায্য করবে। এতে মন্দিরের ইতিহাস লেখা আছে।"
"ধন্যবাদ।"
"আর একটা কথা, তোমরা যদি মন্দিরে যাও, তাহলে ফিরে আসতে পারবে না।"
"আমরা সাবধান থাকব।"
তারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসল। দরজা খোলা ছিল।
"সেই মহিলা কে ছিল?"
"হয়তো সে একজন আত্মা।"
তারা জঙ্গলে এগিয়ে গেল। মানচিত্র অনুযায়ী তারা সঠিক পথে ছিল।
কিন্তু হঠাৎ তারা শুনতে পেল, কেউ তাদের পিছনে আসছে। তারা পিছনে ফিরে তাকাল, কিছু দেখতে পেল না, কিন্তু পায়ের শব্দ ক্রমে জোরালো হল। তারা দৌড়তে শুরু করল।
কিন্তু শব্দটি তাদের তাড়া করছিল। তারা একটি গাছের পিছনে লুকিয়ে পড়ল। শব্দটি থেমে গেল। তারা ভয়ে কাঁপছিল।
"কেউ আমাদের তাড়া করছে।"
"কে?"
"হয়তো ভূত।"
তারা আবার দৌড়তে শুরু করল। কিন্তু এবার তারা দেখতে পেল, একটি কালো ছায়া তাদের তাড়া করছে। ছায়াটি বিশাল, যেন একটি প্রাণী। তারা ভয়ে চিৎকার দিল। ছায়াটি তাদের ধরতে চাইল, কিন্তু তারা পালিয়ে গেল।
তারা একটি নদীর কাছে পৌঁছাল। তারা নদীতে পানি খেল। কিন্তু তারা বুঝতে পারল, তারা হারিয়ে গেছে।
"আমরা কোথায়?"
"আমরা ভুল পথে এসেছি।"
"এখন কি করব?"
"আমরা আবার চেষ্টা করব।"
তারা আবার জঙ্গলে প্রবেশ করল। এবার আরও সাবধানে চলল।
তারা একটি পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর খুঁজে পেল। ঘরটি ছোট, কিন্তু নিরাপদ মনে হল। তারা ঘরের ভেতরে গেল। রাত হয়ে গেল।
তারা আগুন জ্বালাল। আগুনের আলোয় গল্প করছিল।
"তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ?"
সবাই চুপ করে শুনল। একটি মহিলার কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল।
"এটা সেই মহিলা।"
"সে আবার এসেছে।"
তারা বাইরে তাকাল। একটি মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে কান্না।
"ফিরে যাও। এখানে মৃত্যু অপেক্ষা করছে।"
"আমরা ফিরে যাব না।"
"তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে।"
"আমরা ভয় পাই না।"
বলেই মহিলা অদৃশ্য হয়ে গেল। তারা ভয়ে কাঁপছিল। অ্যাডভেঞ্চার সহজ হবে না।
তারা ঘুমিয়ে পড়ল, কিন্তু তাদের মনে ছিল ভয়। মধ্যরাতে রাজের ঘুম ভাঙল। সে শুনতে পেল, কেউ ডাকছে।
"রাজ... রাজ..."
রাজ উঠে দাঁড়াল। বাইরে তাকাল। একটি মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল, চোখে কান্না।
"তোমরা কেন যাচ্ছ না? তোমাদের বাঁচাতে হবে।"
"আমরা যাব না।"
"তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে।"
"আমরা ভয় পাই না।"
মহিলা হতাশ হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। রাজ বুঝতে পারল, এই মহিলা তাদের সাহায্য করতে চাইছে। সে বিছানায় ফিরে গেল, কিন্তু মনে হল, এই অ্যাডভেঞ্চার তাদের জীবন বদলে দেবে।
তারা ঘুম থেকে উঠল। সবাই ক্লান্ত ছিল, কিন্তু সাহস ছিল।
"চলো, আমরা মন্দিরের দিকে যাই।"
তারা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করল। তাদের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেছিল।
Follow Top Trending Privacy Policy and comments
comment url