ভূতুড়ে জঙ্গলের অভিযান (The Haunted Forest Adventure)|CHAPTER 4: জঙ্গলের শান্তি (Forest Silence)

CHAPTER 4: জঙ্গলের শান্তি (Forest Silence)

CHAPTER 4: জঙ্গলের শান্তি

Forest Silence

(ভোর ৬টা)

পাঁচ বন্ধু জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করল। ভোরের আলো গাছের পাতায় পড়ছিল, কিন্তু জঙ্গলের ভেতর অদ্ভুত নীরবতা বিরাজ করছিল।

"তোমরা কি লক্ষ্য করছ? কোনো পাখির ডাক শুনতে পাচ্ছি না।" – সামি

"আসলে, কোনো প্রাণীর শব্দও পাচ্ছি না।" – নিশা

"এটা খুব অদ্ভুত। জঙ্গলে তো সবসময় প্রাণীদের শব্দ থাকে।" – রাজ

"হয়তো তারা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেছে।" – রিয়াদ

"বা হয়তো কিছু একটা ভুল আছে।" – মাহি

তারা এগিয়ে যেতে থাকল। জঙ্গল ক্রমে আরও ঘন হতে লাগল। গাছগুলো ছিল বিশাল, যেন আকাশ ছুঁয়ে ফেলছে।

"শোনো!" – সামি

সবাই চুপ করে শুনল। কিছু শুনতে পেল না।

"আমি কিছু শুনেছিলাম।" – সামি

"কি?" – রাজ

"একটি বাচ্চার কান্নার শব্দ।" – সামি

"কান্না? এখানে কোনো বাচ্চা থাকবে কেন?" – নিশা

"হয়তো আমাদের ভুল শুনেছ।" – রাজ

কিন্তু তখনই আবার শব্দটি ভেসে এল। এবার স্পষ্ট – একটি ছোট বাচ্চার কান্নার শব্দ।

"এটা কোথা থেকে আসছে?" – মাহি

"আসুন, আমরা শব্দটি অনুসরণ করি।" – রাজ

তারা শব্দের দিকে এগিয়ে গেল। শব্দটি ক্রমে জোরালো হতে লাগল।

তারা একটি পুরোনো গাছের কাছে পৌঁছাল। গাছটি ছিল বিশাল, যেন একটি দৈত্য। শব্দটি গাছের পিছন থেকে আসছিল।

"গাছের পিছনে কিছু আছে।" – রাজ

তারা গাছের পিছনে গেল।

তারা দেখতে পেল, একটি ছোট বাচ্চা কাঁদছে। বাচ্চাটি ছিল মেয়ে, তার বয়স হয়তো ৫ বছর।

"ওহ! এই বাচ্চা এখানে কি করছে?" – নিশা

"সে হয়তো হারিয়ে গেছে।" – মাহি

"ভয় পেও না। আমরা তোমাকে সাহায্য করব।" – রাজ

"আমি আমার মাকে খুঁজছি।" – মায়া

"তোমার মা কোথায়?" – সামি

"আমি জানি না। আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, তারপর দেখি আমি এখানে।" – মায়া

"তুমি কখন এখানে এসেছ?" – রিয়াদ

"আমি জানি না।" – মায়া

"তোমার নাম কি?" – রাজ

"মায়া।" – মায়া

"মায়া, তুমি ভয় পেও না। আমরা তোমার মাকে খুঁজে বের করব।" – মাহি

"আমার মা বলেছিল, জঙ্গলে যেও না। কিন্তু আমি এসে গেছি।" – মায়া

"তোমার মা কোথায়?" – সামি

"আমাদের বাড়ি জঙ্গলের কাছাকাছি।" – মায়া

"চলো, আমরা তোমার বাড়িতে যাই।" – রাজ

তারা মায়াকে নিয়ে চলতে শুরু করল।

(দুপুর ১২টা)

তারা জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলছিল। মায়া তাদের হাত ধরে হাঁটছিল। হঠাৎ মায়া থেমে গেল, "আমার বাড়ি ওদিকে।"

তারা মায়াকে নিয়ে ওদিকে গেল। কিছুক্ষণ পর, তারা একটি ছোট বাড়ি দেখতে পেল। বাড়িটি ছিল পরিত্যক্ত, কিন্তু এখনো দাঁড়িয়ে ছিল।

"এটাই আমার বাড়ি।" – মায়া

তারা বাড়ির কাছে গেল। দরজা খোলা ছিল। তারা ভেতরে প্রবেশ করল। বাড়ির ভেতর ছিল অন্ধকার।

"মা!" – মায়া

"কেউ তো নেই।" – রাজ

তারা ঘরে খুঁজতে শুরু করল, কিন্তু কাউকে পেল না।

"মায়া, তোমার মা কোথায়?" – সামি

"আমি জানি না।" – মায়া

হঠাৎ নিশা চিৎকার দিল, "দেখো!" তারা দেখতে পেল, দেয়ালে লেখা: "মায়া, আমি তোমাকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি তোমাকে ছেড়ে যেতে হবে।"

"এটা কী?" – রাজ

"আমার মার লেখা।" – মায়া

"তোমার মা কোথায় গেছে?" – সামি

"আমি জানি না।" – মায়া

"হয়তো সে মন্দিরে গেছে।" – রিয়াদ

"মন্দির?" – মাহি

"হ্যাঁ, সেই মন্দিরে যেখানে ভূত থাকে।" – রাজ

"মা!" – মায়া

সে কাঁদতে শুরু করল। মাহি তাকে জড়িয়ে ধরল, "ভয় পেও না। আমরা তোমার মাকে খুঁজে বের করব।"

রাজ বলল, "চলো, আমরা মন্দিরের দিকে যাই।" তারা আবার চলতে শুরু করল।

(বিকেল ৩টা)

তারা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করল। জঙ্গল ক্রমে আরও ভয়ানক হতে লাগল। গাছগুলো ছিল কালো, যেন মৃত। পাতাগুলো ছিল শুকনো, যেন কোনো প্রাণী নেই।

"এই জঙ্গল খুব ভয়ানক।" – সামি

"আমার মনে হচ্ছে, আমরা ভুল পথে আসছি।" – নিশা

"না, আমরা সঠিক পথে আছি।" – রাজ

হঠাৎ মায়া চিৎকার দিল, "মা!" তারা দেখতে পেল, দূরে একটি মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। মহিলাটি ছিল সাদা পোশাকে, চুল ছিল লম্বা, চোখে ছিল কান্না।

"মা!" – মায়া

সে দৌড়ে মহিলার দিকে গেল। কিন্তু মহিলাটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

"মা!" – মায়া

সে কাঁদতে শুরু করল। মাহি তাকে জড়িয়ে ধরল, "ভয় পেও না। আমরা তোমার মাকে খুঁজে বের করব।"

রাজ বলল, "চলো, আমরা এগিয়ে যাই।" তারা আবার চলতে শুরু করল।

(সন্ধ্যা ৬টা)

তারা একটি পরিত্যক্ত কুঁড়েঘর খুঁজে পেল। ঘরটি ছিল ছোট, কিন্তু নিরাপদ মনে হল। তারা ঘরের ভেতরে গেল। রাত হয়ে গেল।

(রাত ৮টা)

তারা আগুন জ্বালাল। আগুনের আলোয় তারা গল্প করছিল।

"আমি আমার মাকে খুঁজে পাব?" – মায়া

"হ্যাঁ, আমরা তোমার মাকে খুঁজে বের করব।" – রাজ

"তোমরা কি শুনতে পাচ্ছ?" – সামি

সবাই চুপ করে শুনল। একটি মহিলার কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল।

"এটা মায়ার মা।" – নিশা

"সে আবার এসেছে।" – রাজ

তারা বাইরে তাকাল। একটি মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে ছিল কান্না।

"মায়া!" – মহিলা

"মা!" – মায়া

সে দৌড়ে মহিলার দিকে গেল। কিন্তু মহিলাটি অদৃশ্য হয়ে গেল।

"মা!" – মায়া

সে কাঁদতে শুরু করল। মাহি তাকে জড়িয়ে ধরল, "ভয় পেও না। আমরা তোমার মাকে খুঁজে বের করব।"

রাজ বলল, "চলো, আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। কাল সকালে আবার খুঁজব।"

তারা ঘুমিয়ে পড়ল।

(রাত ১১টা)

মধ্যরাতে রাজের ঘুম ভাঙল। সে শুনতে পেল, কেউ ডাকছে।

"রাজ... রাজ..." – ফিসফিস করা শব্দ

রাজ উঠে দাঁড়াল। বাইরে তাকাল। একটি মহিলা দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে ছিল কান্না।

"তোমরা কেন যাচ্ছ না? তোমাদের বাঁচাতে হবে।" – মহিলা

"আমরা যাব না।" – রাজ

"তাহলে তোমাদের মৃত্যু হবে।" – মহিলা

"আমরা ভয় পাই না।" – রাজ

মহিলা হতাশ হয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল। রাজ বুঝতে পারল, এই মহিলা তাদের সাহায্য করতে চাইছে। সে বিছানায় ফিরে গেল, কিন্তু মনে হল, এই অ্যাডভেঞ্চার তাদের জীবন বদলে দেবে।

(ভোর ৫টা)

তারা ঘুম থেকে উঠল। সবাই ক্লান্ত ছিল, কিন্তু তাদের মনে ছিল সাহস।

"চলো, আমরা মন্দিরের দিকে যাই।" – রাজ

তারা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করল। তাদের অ্যাডভেঞ্চার শুরু হয়ে গেছিল।

Advertisement

📢 Share this post & help us grow!

Next Post
No one has commented on this post yet
Comments Here

Follow Top Trending Privacy Policy and comments

comment url